নিজস্ব প্রতিবেদক, সিলেট।
সিলেট ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের দশম শ্রেণির মেধাবী ছাত্র মাহদি আনজুমের (১৫) অকাল মৃত্যুতে জনমনে তীব্র চাঞ্চল্য ও রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে। সুবিদবাজার এলাকার মিয়াজিল ফেসিলিটিজের চতুর্থ তলার বাসিন্দা এই স্কুলছাত্রের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধারের পর তার পরিবার ও এলাকাবাসী একে নিছক আত্মহত্যা হিসেবে মেনে নিতে পারছেন না। স্বজনদের দৃঢ় দাবি, এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড এবং আত্মহত্যার নাটক সাজিয়ে ঘটনাটিকে আড়াল করার চেষ্টা চলছে।
মৃত্যুর রহস্য ও চার প্রশ্ন:
পুলিশ প্রশাসন মাহদির এই রহস্যময় মৃত্যুর পেছনে চারটি বিষয়কে সামনে রেখে তদন্ত শুরু করেছে। এর মধ্যে রয়েছে— পারিবারিক সংকট ছিল কি না, গলায় ফাঁস লাগানোর গিঁটটি প্রশিক্ষিত হাতে তৈরি করা কি না, মৃত্যুর আগে দরজা ভেতর থেকে আটকানো ছিল কি না এবং তার বাবা মিসবাহ উদ্দিনের হত্যার সাথে এই ঘটনার কোনো যোগসূত্র আছে কি না।
বাবার মৃত্যুর ছায়া:
নিহত মাহদির বাবা ব্যবসায়ী মিসবাহ উদ্দিনের মৃত্যু নিয়েও দীর্ঘদিনের রহস্য রয়ে গেছে। ২০২২ সালের ১৮ জুলাই মিসবাহ উদ্দিনকে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল, যেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। যদিও ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে তার মৃত্যুকে 'হার্ট অ্যাটাক' হিসেবে দেখানো হয়েছিল, তবে পরিবারের দাবি তাকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছিল। বাবার মৃত্যুর সেই রহস্য আজও অমীমাংসিত রয়ে গেছে।
তদন্ত ও পারিপার্শ্বিক অবস্থা:
মাহদির ঘর থেকে একটি চিরকুট উদ্ধার করেছে পুলিশ, যার সত্যতা যাচাই করা হচ্ছে। পুলিশ জানিয়েছে, চিরকুটটি মাহদির কি না এবং সেটির ভাষা ও ধরন নিয়ে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া হবে। অন্যদিকে, মাহদির মা ডা. কুলির বর্তমান স্বামী রিজভী আহমদ চৌধুরীর আচরণ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন স্বজনরা। মাহদির মায়ের বক্তব্যের অসঙ্গতি এবং ঘটনার দিন মাহদির সাথে তার মায়ের আচরণের বিষয়টি এখন তদন্তের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে।
এসএমপি বিমানবন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহিদুর রহমান জানিয়েছেন, প্রাথমিকভাবে এটি আত্মহত্যার ঘটনা মনে হলেও, ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটনে বিস্তারিত তদন্ত চলছে।